বড়লেখা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা অব্যাহত, বিজিবির প্রতিরোধে ব্যর্থ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রতিদিনই পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর উদ্দেশ্যে বিএসএফ সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে বিভিন্ন গ্রুপে লোকজন জড়ো করছে। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে কাউকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি তারা।
শুক্রবার ও শনিবার দিনভর বড়লেখার বোবারথল সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। শেষ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বোবারথল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করায় সীমান্তবর্তী জনপদে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন প্রায় ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় বিস্তৃত। এর মধ্যে বড়লেখা অংশের বেশিরভাগ এলাকা দুর্গম ও গভীর অরণ্যে ঘেরা। বিশেষ করে বোবারথল, পাল্লাথল, কুমারসাইল ও বড়াইল সীমান্ত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এসব দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে গত এক বছরে অন্তত দেড় হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ বোবারথল ষাটঘরি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন দলে লোকজন জড়ো করতে শুরু করলে বিষয়টি বিজিবির নজরে আসে। এরপর সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বোবারথল ষাটঘরি সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে লোকজন জড়ো করলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় বিজিবি হ্যান্ডমাইকে বিএসএফকে সতর্ক করে। পাশাপাশি স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তের এপারে অবস্থান নেন।
দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শনিবারও একই সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা চালানো হলে তা প্রতিহত করা হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, 'গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ বড়লেখার বোবারথল সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণও এ কাজে সহযোগিতা করছেন। শনিবারও বিএসএফের কয়েকটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।'