বান্দরবানে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছে তিন কিশোরী। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশ ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে একজন চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুরের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনার কথা ছিল। তবে তারা নির্ধারিত বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ এক কিশোরীর মা জানান, পরিবারের ধারণা অনুযায়ী, তিনজনের কারও কাছে মুঠোফোন থাকার কথা ছিল না। তবে তাদের বহনকারী অটোরিকশার চালক জানিয়েছেন, কিশোরীদের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লামা থানায় জিডি করেন তাঁরা।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মুঠোফোনসহ তিন কিশোরীকে অবস্থান করতে দেখেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরীরা চকরিয়া কিংবা পর্যটন শহর কক্সবাজারে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তাদের অবস্থান শনাক্ত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।