সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করল ইসলামাবাদ
সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা সৌদি আরবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থান করছে।’ তবে দেশটিতে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি নতুন কোনো বিষয় নয় বলেও জানান তিনি। কয়েক দশক ধরেই সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সামরিক দায়িত্বে পাকিস্তানি সেনারা কাজ করে আসছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা নিয়ে সম্প্রতি রিয়াদে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকি প্রতিহত করার বিষয়ে তিন দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে পাকিস্তান ও তুরস্কের সহযোগিতা বাড়ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে তুরস্ক।
দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটেও রিয়াদ ইসলামাবাদকে সহায়তা করেছে।
আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের বর্তমান সামরিক সহযোগিতা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিন দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং জনগণের মধ্যেও রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।