ঈদের আগে দেশে ফেরার কথা, মালয়েশিয়ায় মাটিচাপায় প্রাণ গেল শরিফুলের
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শোকের মাতম
শরিফুল দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কোরবানির ঈদ উদযাপন করবেন—এমনটাই কথা ছিল। ছেলে দেশে ফিরলে তাঁর বিয়েও দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মা। সেই আশায় ঘর সাজিয়ে-গুছিয়েও রেখেছিলেন। তবে ঈদ উদযাপন কিংবা ছেলের বিয়ে—কোনোটিই আর হলো না। মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী শ্রমিক শরিফুল ফকির।
ছেলের দেশে ফেরার অপেক্ষায় যে ঘর সাজিয়েছিলেন, এখন সেই ঘরেই চলছে শোকের মাতম। বিলাপ করতে করতে এমন কথাই বলছিলেন নিহত শরিফুলের মা নাসি বেগম।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মালয়েশিয়ায় মাটিচাপায় শরিফুল ফকিরের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত শরিফুল ফকির গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের নজরুল ফকিরের ছেলে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় চার বছর আগে শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।
শরিফুলের ফুফু বিলকিস বেগম বলেন, মৃত্যুর আগের রাতেও শরিফুলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন শরিফুল জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদে দেশে ফিরবেন এবং বিয়ের জন্য ভালো একটি ঘর করবেন। পরিবারের সদস্যদেরও মেয়ে দেখার কথা বলেছিলেন তিনি।
বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুই দেশে আয়। তারপর তোকে নিয়ে মেয়ে দেখতে যাব। কিন্তু পরদিন সকাল ১০টার দিকে শুনি, আমাদের শরিফুল আর নেই। ও আর কোনোদিন আমাকে ফোন করে ফুফু বলে ডাকবে না।’
প্রতিবেশীরা জানান, নজরুল ফকিরের চার সন্তানের মধ্যে শরিফুল ছিলেন সেজো। তাঁর আরেক ছেলে আশরাফুল প্রায় সাত বছর আগে মারা গেছেন। বড় ছেলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সরল-স্বভাবের। আর ছোট ছেলে বাড়ির গরু-বাছুর দেখাশোনা করেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শরিফুল।
শরিফুলের বাবা নজরুল ফকির বলেন, ‘শরিফুলের রোজগারেই সংসার চলত। শুনেছি, মালয়েশিয়ায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি কেটে দুই পাশে রাখা হয়েছিল। শরিফুল কাজ করতে ড্রেনে নেমে দাঁড়ানোর পরই মাটিচাপা পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে একটু দ্রুত দেশে এনে দেন। শেষবারের মতো ছেলেটাকে একটু দেখতে চাই।’
বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর কবির জানান, বিষয়টি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীকে জানানো হয়েছে। তিনি শরিফুলের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।