ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে মারা গেলেন কলেজ শিক্ষক

মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে মারা গেলেন কলেজ শিক্ষকলালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করে হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) মারা গেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক ছিলেন। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে আরিফুল ইসলাম নিজ গ্রামের মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করতেন। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে তিনি ডেকে জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এজাহারে বলা হয়, গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আরিফুলের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে টানা ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।আরিফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় রহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলার পর আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামকে গত ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিলের নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।এদিকে, গত ৬ আগস্ট আরিফুলের একটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় নবজাতক সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।আরিফুলের মৃত্যুর খবর শুক্রবার রাতে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ‘আরিফুলের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।’ আরিফুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও সচেতন মহলের লোকজন।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে মারা গেলেন কলেজ শিক্ষক