বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে, তবে আপাতত নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই: আবহাওয়া অধিদপ্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি অবস্থান করছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি আগামী ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।