টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের ধারণা, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক বা বিষাক্ত কোনো পদার্থ মিশিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে সে বিদ্যালয়ের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি; অনেক শিক্ষার্থী শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলের নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, নলকূপের পানিতে কোনো বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।