তিন বছর বাবাকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ, স্ত্রীর জানাজায়ও যেতে দেননি ছেলে
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বৃদ্ধ বাবাকে দীর্ঘ তিন বছর ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধের স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও তাকে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন ওই বৃদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাবার প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তার মেয়েরা। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা শেষে গত ৩ জুন রাতে মেয়ের বাড়িতে তিনি মারা যান। পরদিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্বজনদের দাবি, ওই সময় আব্দুল মোন্নাফ তার বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন, যাতে তিনি স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে না পারেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাহমুদা বেগমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সবার উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা আব্দুল জলিলকে ঘর থেকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও অভিযুক্ত ছেলে একসঙ্গে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাকে দাফনে অংশ নিতেও বাধা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেয়।