যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয় যে হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ করে এবং দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিলে লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এ পরিকল্পনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যত দিন দখলদারি থাকবে, তত দিন প্রতিরোধও চলবে।’ তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব লেবাননের জনগণের একটি অংশকে ধ্বংস এবং বাকিদের দাসে পরিণত করার রূপরেখা।
গত ২ মার্চ তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর এপ্রিল থেকে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা গড়ে তোলার বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। বোফোর্ট দুর্গ এলাকাকে এমন একটি মডেল জোন হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে লেবানন সরকার।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর মতো প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘মারাত্মক ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। তাঁর দাবি, হিজবুল্লাহ কখনোই লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে যাবে না এবং লেবানন সেনাবাহিনীর সেই সক্ষমতাও নেই।
এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপের মুখে পড়েছেন। বিরোধী দল ও জোটের কিছু অংশ মনে করছে, মার্কিন শর্ত মেনে চললে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে।