রংপুর    মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

আর্জেন্টিনা ভক্ত সেই মতিন এখন কেমন আছেন

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ভক্তদের নানা আয়োজন চোখে পড়ে। বাড়ি, দোকান, অফিস কিংবা রাস্তার দুই ধারে উড়তে থাকে বিভিন্ন দেশের পতাকা। বিশেষ করে Argentina ও Brazil সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বাংলাদেশে যেন আলাদা মাত্রা পায়। তবে কখনো কখনো এই উন্মাদনাই ডেকে আনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার নাম আবদুল মতিন।ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিন ছিলেন আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রিয় দলের পতাকা টানাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। লক্ষ্মীপুর শহরের আজিম শাহ মার্কেটের তিনতলায় পতাকা লাগানোর সময় তার হাতে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের রড বিদ্যুতের প্রধান সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে স্পর্শ করলে মুহূর্তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন তিনি।স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় ভর্তি করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও ইনফেকশনের কারণে তার দুই হাত ও দুই পা কেটে ফেলতে হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা চলে তার। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। একসময় পরিশ্রমী ও সফল ব্যবসায়ী মতিন দুর্ঘটনার পর হারিয়ে ফেলেন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনের স্বাভাবিক চলার শক্তি।তবে এত কিছুর পরও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি একটুও। এখনও প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা দেখলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। স্বপ্ন দেখেন একদিন গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার খেলা দেখবেন, কাছ থেকে দেখবেন তার প্রিয় ফুটবলার Lionel Messi-কে। মতিন বলেন, “প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে আজ আমি সব হারিয়েছি। তারপরও স্বপ্ন দেখি একদিন মেসিদের খেলা মাঠে বসে দেখবো।”জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন তার স্ত্রী ফাতেমা। দুর্ঘটনার আগে দুজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। দুর্ঘটনার পর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও পরিবারের অমতে মতিনকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজেই স্বামীকে সহায়তা করেন ফাতেমা। তাদের সংসারে রয়েছে জান্নাতুল ঝুমুর নামে ১০ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান।ফাতেমা বলেন, “মানুষটাকে ভালোবেসেছি বলেই তার পাশে আছি। যতদিন বাঁচবো, তার সেবা করে যেতে চাই।”এদিকে আর্জেন্টিনাপ্রেমী মতিনকে দেখতে দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা যায়।তবে জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে সবার প্রতি একটি বার্তাই দিতে চান মতিন। তার ভাষায়, “খেলাকে ভালোবাসুন, সমর্থন করুন। কিন্তু উন্মাদনা যেন এমন না হয়, যার মাশুল সারাজীবন দিতে হয়।”প্রতিবেদন: RTN News

আর্জেন্টিনা ভক্ত সেই মতিন এখন কেমন আছেন