হালান্ড ঠেকাতে মাগালাইসই আনচেলত্তির ভরসা, নেইমার-ভিনিকে একসঙ্গে খেলানোর ইঙ্গিত
ক্লাব ফুটবলে গোলের পর গোল করে নিজেকে ‘গোলমেশিন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। এবার সেই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে বিশ্বকাপেও আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। আর তাই শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হালান্ডকে থামানোর বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, হালান্ডকে আটকানোর দায়িত্বে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস। প্রিমিয়ার লিগে বহুবার মুখোমুখি হওয়ায় মাগালাইস হালান্ডের খেলার ধরন খুব ভালোভাবেই জানেন।
আনচেলত্তি বলেন, “হালান্ডকে সবাই চেনে। আমার ডিফেন্ডারকে আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই যে সে কীভাবে খেলে। মাগালাইস হালান্ডকে আমার চেয়েও ভালো চেনে, কারণ তারা অনেকবার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে।”
এদিকে দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মাঠে ফিরেছিলেন নেইমার। তবে জাপানের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে তাকে খেলাননি আনচেলত্তি। এবার নরওয়ের বিপক্ষে নেইমারকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে চার গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও নিয়ে আক্রমণভাগ সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, “নেইমার ও ভিনি একসঙ্গে খেলতে পারে। আমার বিশ্বাস, তারা একসঙ্গেই খেলবে।”
তবে ব্রাজিলের সেট-পিস থেকে গোল করতে না পারার বিষয়টি নিয়েও অসন্তুষ্ট আনচেলত্তি। তাঁর মতে, কৌশলগত দিক আরও উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো সেট-পিসের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। অনুশীলনে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী, সেট-পিস থেকেই গোল করতে পারব।”
শেষ ষোলোর এই ম্যাচে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। রাফিনিয়া দলে থাকলেও শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে নেইমারের শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা জোরালো হলেও তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, তা নির্ভর করবে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর।
আনচেলত্তি অবশ্য শুধু হালান্ড নয়, পুরো নরওয়ে দলকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে হালান্ডকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ স্ট্রাইকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা পুরো ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছি। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হালান্ডের বৈশিষ্ট্যগুলোও বিশ্লেষণ করছি। কারণ, সে সত্যিই খুবই বিপজ্জনক একজন স্ট্রাইকার।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ইতিহাস সুখকর নয়। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা পাঁচ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদায় নিতে হয়েছে সেলেসাওদের। এবারও শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ ইউরোপের নরওয়ে। আরও একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য উদ্বেগের—এখন পর্যন্ত নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এবার সেই ইতিহাস বদলে হেক্সা মিশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে আজকের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে।