ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

২-০ থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, মেসির নেতৃত্বে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা


প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২-০ থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, মেসির নেতৃত্বে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
মেসির উচ্ছ্বাস, আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

সবকিছুই যেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে স্কোরবোর্ডে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আর মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে হয়ে উঠেছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। তখন মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করেই মাঠ ছাড়ল লিওনেল স্কালোনির দল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ২-০ ব্যবধান থেকে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিসর। ১৫তম মিনিটে মারাওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১তম মিনিটে পেনাল্টি পায় স্কালোনির দল। তবে স্পট কিক থেকে মেসির নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এরপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, জুলিয়ান আলভারেজের শট এবং মেসির ফ্রি-কিক—সবই ব্যর্থ করে দেন এই মিসরীয় গোলরক্ষক। একবার তো মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। তবে গোলের দেখা পায় মিসরই। ৬৭তম মিনিটে আর্জেন্টিনার কর্নার থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়িয়ে দেন হাইসেম হাসানের কাছে। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তার নিচু ক্রস থেকে সহজেই জালে বল পাঠান মোস্তফা জিকো। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিসর।

এরপরই শেষ চেষ্টা হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজ ও নিকো গনসালেসকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। এই পরিবর্তনেই বদলে যায় ম্যাচের গতি।

৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের নবম অ্যাসিস্ট করে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েন মেসি।

এর মাত্র চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন মেসি। গোলরক্ষক বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি; ক্রসবারে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের হতাশা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল।

যোগ করা সময়েও থামেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় আলবিসেলেস্তেরা। আর ঠিক এক মিনিট পর লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে বক্সে ঢুকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।

শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। হার না মানা মানসিকতা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিষয় : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ফুটবল

আর টি এন নিউজ ২৪

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


২-০ থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, মেসির নেতৃত্বে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

সবকিছুই যেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে স্কোরবোর্ডে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আর মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে হয়ে উঠেছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। তখন মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করেই মাঠ ছাড়ল লিওনেল স্কালোনির দল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ২-০ ব্যবধান থেকে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিসর। ১৫তম মিনিটে মারাওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১তম মিনিটে পেনাল্টি পায় স্কালোনির দল। তবে স্পট কিক থেকে মেসির নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এরপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, জুলিয়ান আলভারেজের শট এবং মেসির ফ্রি-কিক—সবই ব্যর্থ করে দেন এই মিসরীয় গোলরক্ষক। একবার তো মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। তবে গোলের দেখা পায় মিসরই। ৬৭তম মিনিটে আর্জেন্টিনার কর্নার থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়িয়ে দেন হাইসেম হাসানের কাছে। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তার নিচু ক্রস থেকে সহজেই জালে বল পাঠান মোস্তফা জিকো। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিসর।

এরপরই শেষ চেষ্টা হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজ ও নিকো গনসালেসকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। এই পরিবর্তনেই বদলে যায় ম্যাচের গতি।

৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের নবম অ্যাসিস্ট করে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েন মেসি।

এর মাত্র চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন মেসি। গোলরক্ষক বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি; ক্রসবারে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের হতাশা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল।

যোগ করা সময়েও থামেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় আলবিসেলেস্তেরা। আর ঠিক এক মিনিট পর লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে বক্সে ঢুকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।

শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। হার না মানা মানসিকতা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।


আর টি এন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
২-০ থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, মেসির নেতৃত্বে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
0:00 0:00
1.0x