ইরানপন্থি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফের রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়।
হুতিরা জানিয়েছে, তারা রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরব সমর্থন দেওয়ার পর দেশটির বিরুদ্ধে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান শুরুর পর থেকে ১,৮৬০ হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্র জানান, ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বাহিনী আকাশেই প্রতিহত করেছে। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়া রিয়াদের দিকে যে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, আমরা সেগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করেছি।’
রিয়াদজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সৌদি রাজধানীতে অবস্থানরত কূটনীতিকরা নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোও গতকাল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয় বলে কূটনীতিক ও বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত ২৮ জনের তালিকায় এক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের বিস্তৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এর ফলে আগে থেকেই সংঘাতে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
সেনা মোতায়েনের খবর নিশ্চিত করল পাকিস্তান
এদিকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে, উপসাগরীয় এই দেশটিতে তাদের সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের সীমান্তপারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিমানবন্দরগুলোতেও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। গত বুধবার সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানের সেনারা সেখানে আগে থেকেই রয়েছে। এটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি।’ তবে কতজন সেনা সেখানে রয়েছে বা তাদের সক্ষমতা কী, তা জানাননি তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে তুরস্ক সেনা পাঠাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই তথ্য জানান। আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তিন দেশই প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা তাকে সহায়তা করবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি। কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে আপনারা তার প্রতিরক্ষায় সহায়তা করবেন। এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়।’ তিনি আরও বলেন, তুরস্ক অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর জন্য নিজেদের সেনা পাঠাবে না।