ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান


প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান

‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান নিজেকে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার বলে দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার শুনানির সময় এ অভিযোগ করেন জিয়াউল আহসান। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এদিন তাঁর বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে এক কনস্টেবল জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের সামনে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও আসামিপক্ষের জেরার বিষয়টি প্রকাশ করা হয় না।

পরে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান কথা বলার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আদালতকে বিচার করতে বাধ্য করা হয়েছিল—এমন বক্তব্য আইনজীবী শিশির মনির ও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দিয়েছিলেন। নিজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জিয়াউল আহসান বলেন, গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমে তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তিনিই একমাত্র অপরাধী। হাজতখানায় কেক কাটার একটি ঘটনা নিয়েও গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই দিন তিনি হাজতখানায় ছিলেন না এবং কেক কে কেটেছেন, সেটিও তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেন।

তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের অনুরোধ জানান।

এ সময় বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৌঁছে দিতে উপস্থিত প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথাও বলেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বিচার শেষ হওয়ার আগে তাঁকে ‘খুনি’ বা ‘ধর্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাঁরা কোনো আসামির বক্তব্য বা নাম বিকৃত করেন না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আসামিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার ডিফেন্স সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির প্রসঙ্গ তুলে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি থেকে সাক্ষী ছিনিয়ে নিতে পারে। এর চেয়ে নির্যাতিত আর কে হতে পারে?’

জিয়াউল আহসানের আরেক আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তাঁরা গণমাধ্যমে কথা বলেন না এবং সেটি তাঁরা চানও না।

তবে প্রসিকিউশন থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, জিয়াউল আহসান নিজে গণমাধ্যমে কথা না বললেও তাঁর আইনজীবী নাজনীন নাহার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।

বিষয় : জাতীয়

RTN News

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান নিজেকে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার বলে দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার শুনানির সময় এ অভিযোগ করেন জিয়াউল আহসান। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এদিন তাঁর বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে এক কনস্টেবল জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের সামনে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও আসামিপক্ষের জেরার বিষয়টি প্রকাশ করা হয় না।

পরে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান কথা বলার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আদালতকে বিচার করতে বাধ্য করা হয়েছিল—এমন বক্তব্য আইনজীবী শিশির মনির ও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দিয়েছিলেন। নিজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জিয়াউল আহসান বলেন, গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমে তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তিনিই একমাত্র অপরাধী। হাজতখানায় কেক কাটার একটি ঘটনা নিয়েও গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই দিন তিনি হাজতখানায় ছিলেন না এবং কেক কে কেটেছেন, সেটিও তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেন।

তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের অনুরোধ জানান।

এ সময় বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৌঁছে দিতে উপস্থিত প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথাও বলেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বিচার শেষ হওয়ার আগে তাঁকে ‘খুনি’ বা ‘ধর্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাঁরা কোনো আসামির বক্তব্য বা নাম বিকৃত করেন না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আসামিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার ডিফেন্স সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির প্রসঙ্গ তুলে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি থেকে সাক্ষী ছিনিয়ে নিতে পারে। এর চেয়ে নির্যাতিত আর কে হতে পারে?’

জিয়াউল আহসানের আরেক আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তাঁরা গণমাধ্যমে কথা বলেন না এবং সেটি তাঁরা চানও না।

তবে প্রসিকিউশন থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, জিয়াউল আহসান নিজে গণমাধ্যমে কথা না বললেও তাঁর আইনজীবী নাজনীন নাহার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
‘নুসরাত হত্যা মামলার মতো আমিও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান
0:00 0:00
1.0x