যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বাড়ছে তেলের দাম, চাপের মুখে বিশ্ব শেয়ারবাজার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগও বেড়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।
ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের পরও পরিস্থিতিতে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
রোববার হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে মাইন পুঁতে রাখতে না পারে, সে জন্য দ্বীপটির রকেট নিক্ষেপের স্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদেরকে কঠোরভাবে আঘাত করব।’
তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চাপ প্রয়োগের এই অভিযানে বড় ধরনের পরিবর্তন ‘কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে’ আসতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই বেড়েছে। আগের দিনও উভয় বাজারে ২ শতাংশের বেশি দাম বাড়ে।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বিশ্লেষক রদ্রিগো ক্যাত্রিল বলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর নিয়ন্ত্রিত ধরন দেখে মনে হচ্ছে, কোনো পক্ষই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ফিরতে সক্রিয়ভাবে আগ্রহী নয়। তবে আলোচনা থমকে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার কৌশলগত গুরুত্ব পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রেখেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
দরপতন এশিয়ার শেয়ারবাজারে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পাশাপাশি সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
টোকিও, হংকং, সিউল, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনের শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে। তবে তাইপে, ম্যানিলা ও জাকার্তার বাজারে সূচক বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও ভোক্তা মূল্যসূচকের আসন্ন প্রতিবেদন সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে ফেডের প্রধান কেভিন ওয়ার্শের সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে কঠোর অবস্থানের বক্তব্যের পর বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বেড়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদ বাড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। সোমবার জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এদিকে হংকং শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর দিনেই ফাস্ট-ফ্যাশন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান শেইনের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ১৭০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিল।
অন্যদিকে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা মিডিয়াটেকে ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।