ঢাকা    সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি


প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
নেপালের রাসুয়ায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ‘ত্রিশুলি-৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের কাছে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা : ইন্টারনেট

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশে এখনো তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে রোববার পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশটির আট জেলায় ৭৩৪ জনের লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৫৯টি, নবলপরাসী পূর্বে ১৮৪টি, নবলপরাসী পশ্চিমে ৮২টি, গোর্খায় ৫৮টি, নুয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রসুয়ায় ১৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি রয়েছেন। এ ছাড়া রসুয়ায় ৫৬২ জন স্থানীয় বাসিন্দা, নুয়াকোটে ১১৫ জন, মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন এবং লাংটাং ন্যাশনাল পার্কে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জন কর্মীকে এবং হেলিকপ্টারে করে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যায় আহত ২৪২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বা চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

তিব্বতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের শিগাতসে শহরের জিরোং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকা দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

প্রাথমিকভাবে এই বিপর্যয়ের জন্য ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প নয়; বরং ভূমিধস থেকেই ভূকম্পনজনিত শক্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার কারণেই বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল ঢল নেমে আসে। নেপালের রাসুয়া জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকা থেকে নেমে আসা এই প্রবল স্রোত বিভিন্ন নদী অববাহিকা ধরে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের কিছু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

বন্যার পানির স্রোতে ভুটে কোশি, ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী বহু বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে উঠেছে।

উদ্ধারে যোগ দিয়েছে চীন ও ভারত

ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উদ্ধার অভিযানে নেপালের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে চীন ও ভারতের বিশেষায়িত কারিগরি দল।

নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ত্রিসুলি-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি কেবল টানেলে ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে মূল সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে কয়েকজন কর্মী আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

একই সঙ্গে ত্রিসুলি-৩ ‘বি’ কেন্দ্রেও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে টানা বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তার কারণে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

নেপালের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত সোমবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন সতর্কবার্তা হিসেবে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রাখা হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

RTN News

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশে এখনো তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে রোববার পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশটির আট জেলায় ৭৩৪ জনের লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৫৯টি, নবলপরাসী পূর্বে ১৮৪টি, নবলপরাসী পশ্চিমে ৮২টি, গোর্খায় ৫৮টি, নুয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রসুয়ায় ১৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি রয়েছেন। এ ছাড়া রসুয়ায় ৫৬২ জন স্থানীয় বাসিন্দা, নুয়াকোটে ১১৫ জন, মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন এবং লাংটাং ন্যাশনাল পার্কে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জন কর্মীকে এবং হেলিকপ্টারে করে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যায় আহত ২৪২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বা চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

তিব্বতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের শিগাতসে শহরের জিরোং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকা দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

প্রাথমিকভাবে এই বিপর্যয়ের জন্য ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প নয়; বরং ভূমিধস থেকেই ভূকম্পনজনিত শক্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার কারণেই বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল ঢল নেমে আসে। নেপালের রাসুয়া জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকা থেকে নেমে আসা এই প্রবল স্রোত বিভিন্ন নদী অববাহিকা ধরে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের কিছু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

বন্যার পানির স্রোতে ভুটে কোশি, ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী বহু বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে উঠেছে।

উদ্ধারে যোগ দিয়েছে চীন ও ভারত

ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উদ্ধার অভিযানে নেপালের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে চীন ও ভারতের বিশেষায়িত কারিগরি দল।

নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ত্রিসুলি-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি কেবল টানেলে ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে মূল সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে কয়েকজন কর্মী আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

একই সঙ্গে ত্রিসুলি-৩ ‘বি’ কেন্দ্রেও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে টানা বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তার কারণে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

নেপালের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত সোমবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন সতর্কবার্তা হিসেবে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রাখা হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৮৮; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
0:00 0:00
1.0x