অবশ্যই। তথ্যগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে, সংবাদধর্মী ও পাঠকবান্ধব করে দিলাম।
হেডিংলির পর লর্ডসেও ভরাডুবি, পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘মেরুদণ্ডহীন’ শব্দ নিয়ে তোলপাড়
ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে যেন বেরই হতে পারছে না পাকিস্তান ক্রিকেট দল। হেডিংলির পর লর্ডসেও বড় ব্যবধানে হেরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টেস্ট সিরিজ খুইয়েছে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। দলের এমন পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ সাবেক ক্রিকেটাররাও। কেউ কেউ বর্তমান দলকে আখ্যা দিয়েছেন ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে।
চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব হারান শান মাসুদ। তাঁর জায়গায় আবারও বাবর আজমকে নেতৃত্বে ফেরানো হয়। সাদা পোশাকে প্রায় তিন বছর পর অধিনায়কত্বে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করেছিল পাকিস্তান। তবে ইংল্যান্ড সফরে এসে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দুই টেস্টেই হেরে সিরিজ খোয়াতে হয়েছে তাদের।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানসহ পুরো দলকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ তাঁর অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট এখন মেরুদণ্ডহীন।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ১৯৩ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন বাবর। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। হেডিংলিতে একাদশে না থাকলেও লর্ডসে সুযোগ পেয়েও ব্যাট হাতে করেছেন মাত্র ১৪ রান।
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের চিত্র ছিল আরও হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১৯৪ রানে। প্রথম ইনিংসে আজান আওয়াইসের ৪৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সৌদ শাকিলের ৯৭ রান ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি অন্যরা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বোলাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছেন। লর্ডসে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের ১৪টিই নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি।
পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা দেখে হতাশ সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদও। এক্সে তিনি লিখেছেন, এত সমৃদ্ধ ইতিহাস ও কিংবদন্তিতুল্য মর্যাদার একটি ক্রিকেটীয় দেশ আজ বিশ্ব ক্রিকেটে হাসি-তামাশার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।
শেহজাদ আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন পতনের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। দলের এমন অবস্থা তাঁর জন্য ‘হৃদয়বিদারক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিসংখ্যানও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট করছে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে জয় মাত্র ৫টিতে, বিপরীতে হার ১৩ ম্যাচে। বাংলাদেশের বিপক্ষেই টানা চার টেস্টে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই পরাজয়ের পর টেস্ট ইতিহাসেও নতুন এক অবস্থানে পৌঁছেছে পাকিস্তান। ১৯৫২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে পাকিস্তানের জয় ১৫৩টি, হার ১৫৪টি এবং ড্র ১৬৬টি। অর্থাৎ টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা বেশি হয়েছে পাকিস্তানের।