জাজিরায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে শতাধিক ঘরবাড়ি-দোকান
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি ও স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার তীর নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাথুরিয়া এলাকায় ১০-১২ দিন আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়। শুরুতে ভাঙনের গতি ধীর থাকলেও গত ৭ আগস্ট জুমার নামাজের সময় নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এরপর সোমবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত থেমে থেমে ভাঙন চলতে থাকে।
ভাঙনের আশঙ্কায় গত রোববার থেকে গতকাল বুধবারের মধ্যে ১০টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, এলাকায় আগে থেকে তীর রক্ষার কাজ শুরু হয়নি। কয়েক মাস আগে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। ভাঙন শুরু হওয়ার পর তাঁকে নিজের ঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটাটিও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনে কাথুরিয়া গ্রামের সঙ্গে পালেরচর বাজারের যোগাযোগের একমাত্র সড়কের বেশ কিছু অংশ নদীতে চলে গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ফেলছে। বুধবার পর্যন্ত প্রায় চার হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব মাদবর বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে তাঁর বাড়ির পাশেও হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। আশপাশের অনেক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও বহু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার ভাঙন রোধে জাজিরা উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা ছিল, বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হবে। তবে প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
পাউবো বলছে, প্রকল্পের একটি অংশের নকশা পরিবর্তন এবং প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে সময় লাগায় কাজ পিছিয়েছে। প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই দুই কিলোমিটার অংশের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের আগে হঠাৎ তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তবে এর প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছিল।
জাজিরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। ঝুঁকি কমাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।