দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমেনি, ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকার ১২৯ এলাকা পানির নিচে
স্টাফ রিপোর্টার
টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রাজধানীর অন্তত ১২৯টি এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি, ফুটপাত এমনকি অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। অথচ গত ১০ বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারও রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে জলাবদ্ধতার শঙ্কাও থাকছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর সিটি এলাকায় ৭৯টি এবং দক্ষিণ সিটি এলাকায় ৫০টি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। উত্তরা, খিলক্ষেত, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বাড্ডা, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, মালিবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তান, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে।
অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। নিচু এলাকায় বহু বাড়িঘর ও দোকানেও বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই রাজধানীতে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি স্লুইসগেটের একটিও বর্তমানে সচল না থাকায় পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানান, জলাবদ্ধতার হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেনের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং অচল স্লুইসগেটগুলো সচল করা জরুরি।
নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন, খাল-জলাশয় দখল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা কমছে না। তাঁর মতে, টেকসই সমাধানে নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই।