ঢাকা    সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তি সারা দেশে


প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তি সারা দেশে

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং। প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট, জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং ঝড়-বৃষ্টিজনিত সাময়িক বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার সারা দেশে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এর আগে গত মে মাসেও একই পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে লোডশেডিং হচ্ছে, যা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি অনেক বেশি নাজুক। দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায়ও লোডশেডিংয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সার কারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে লোডশেডিং কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং অন্য ইউনিটেও উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থসংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্র পুরোপুরি চালু না থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ও বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ময়মনসিংহের ভালুকার বড়াই এলাকার বাসিন্দা রবিন বড়ুয়া বলেন, তাদের এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, টেক্সটাইল কারখানা এবং কৃষি খামারগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর পাশে হয়েও এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন।

চট্টগ্রামের লোহাগড়ার বাসিন্দা ইমন আহমেদ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

বিষয় : বিদ্যুৎ গ্যাস

আর টি এন নিউজ ২৪

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তি সারা দেশে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং। প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট, জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং ঝড়-বৃষ্টিজনিত সাময়িক বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার সারা দেশে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এর আগে গত মে মাসেও একই পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে লোডশেডিং হচ্ছে, যা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি অনেক বেশি নাজুক। দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায়ও লোডশেডিংয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সার কারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে লোডশেডিং কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং অন্য ইউনিটেও উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থসংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্র পুরোপুরি চালু না থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ও বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ময়মনসিংহের ভালুকার বড়াই এলাকার বাসিন্দা রবিন বড়ুয়া বলেন, তাদের এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, টেক্সটাইল কারখানা এবং কৃষি খামারগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর পাশে হয়েও এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন।

চট্টগ্রামের লোহাগড়ার বাসিন্দা ইমন আহমেদ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।


আর টি এন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তি সারা দেশে
0:00 0:00
1.0x