ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে গোখরা পুষতেন ইকবাল, সেই সাপের কামড়েই সংকটাপন্ন

শখ করে বাড়িতে গোখরা পুষতেন ইকবাল, সেই সাপের কামড়ে হাসপাতালেচাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষতে গিয়ে সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। বর্তমানে তিনি মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ইকবালকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসকেরা বিষধর সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। দুই ডোজে মোট ২০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও তাঁর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় হঠাৎ সাপটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালন করা তাঁর স্বামীর শখ। কয়েক মাস আগে বিল থেকে একটি গোখরা সাপ ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে স্বামীকে বারবার নিষেধ করেছিলেন রিনা। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করেই সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল।মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্বিতীয় ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। প্রয়োজন হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে তৃতীয় ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়।চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টা রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

 স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে গোখরা পুষতেন ইকবাল, সেই সাপের কামড়েই সংকটাপন্ন