ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ, ‘মোহাম্মদ’ নাম টেনে ট্রাম্পের ঠাট্টা


প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ, ‘মোহাম্মদ’ নাম টেনে ট্রাম্পের ঠাট্টা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

 ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের রসিকতা, সমাবেশে সামান্য সাড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই হবে। তাঁর দাবি, এতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। এরপর তিনি বলেন, ‘হ্যালো, মোহাম্মদ।’ এমনটা তিনি বছরের পর বছর ধরে করে আসছেন এবং কখনো ভুল করেননি বলেও মন্তব্য করেন।

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসারে বিশ্বের বহু মুসলিম পরিবারের ছেলেসন্তানের নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। মুসলিম সমাজে নামটি বহুল প্রচলিত।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই রসিকতা করেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর তিনি ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভান করেন। ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল সামান্য।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠন। তাদের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবমাননা করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের বক্তব্যে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি আক্রমণও বেড়েছে বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন। তাঁর সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের মুসলিম রাজনীতিক আবদুল এল-সাইদ এবং মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, যার অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করা।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) এ বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে আংশিকভাবে দায়ী করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব সংবাদ ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা

RTN News

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ, ‘মোহাম্মদ’ নাম টেনে ট্রাম্পের ঠাট্টা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের রসিকতা, সমাবেশে সামান্য সাড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই হবে। তাঁর দাবি, এতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। এরপর তিনি বলেন, ‘হ্যালো, মোহাম্মদ।’ এমনটা তিনি বছরের পর বছর ধরে করে আসছেন এবং কখনো ভুল করেননি বলেও মন্তব্য করেন।

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসারে বিশ্বের বহু মুসলিম পরিবারের ছেলেসন্তানের নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। মুসলিম সমাজে নামটি বহুল প্রচলিত।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই রসিকতা করেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর তিনি ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভান করেন। ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল সামান্য।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠন। তাদের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবমাননা করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের বক্তব্যে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি আক্রমণও বেড়েছে বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন। তাঁর সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের মুসলিম রাজনীতিক আবদুল এল-সাইদ এবং মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, যার অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করা।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) এ বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে আংশিকভাবে দায়ী করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ, ‘মোহাম্মদ’ নাম টেনে ট্রাম্পের ঠাট্টা
0:00 0:00
1.0x