আটকের পর শরীরে আঘাতের দাগ দেখালেন আমির খানের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে জেইন
ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর শরীরে আঘাতের দাগের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন অভিনেতা আমির খানের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে জেইন মেরি। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভ চলাকালে তাঁকে আটক করা হয়। পরে মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জেইনের হাত, আঙুল ও পায়ে আঘাতের দাগ দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমাদের এতটা ভয় দেখিয়ো না, যাতে ভয় পাওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে জেইন লেখেন, ‘ইন্টারনেটে রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে দিচ্ছে সে।’
শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন জেইন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা ইমরান খান ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন। সেখান থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকের পর নিজের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন ইমরান খানও। তিনি জানান, কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা বুঝতে পারেননি। পুলিশের সদস্যরা তাঁদের রাস্তা থেকে তুলে ভ্যানে উঠতে বলেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের ভ্যানে ঘোরানো হয়। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়।
কেন আটক করা হয়েছিল বিক্ষোভকারীদের
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়া এবং ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। নির্বাচনব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে কাজ করা একটি সংগঠনের কর্মসূচিতেও সমর্থন জানানো হয়। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে তুষার গান্ধীকেও আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগস্ট ক্রান্তি ময়দান বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছিল।
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়।
এই আন্দোলন ঘিরে বিরোধী রাজনীতিক, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটকের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে