সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন
চলতি বছর (২০২৬) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ অ্যাকাডেমি এ বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও কবিতাকে আধুনিক ভাষা ও অনন্য সাহিত্যিক প্রকাশভঙ্গিতে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যান কারসনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কার পাওয়ার খবর জানাতে ফোন করা হলে অ্যান কারসন তখন নিজের রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি প্রথমে কলটি ধরেননি। পরে স্বামীর পরামর্শে কলব্যাক করলে নোবেলজয়ের খবর জানতে পারেন তিনি।
৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক বর্তমানে আইসল্যান্ডে বসবাস করছেন। ২০০৮ সালে তিনি আইসল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন। দেশটির পাবলিক ব্রডকাস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন আসলেও প্রথমে তিনি তা বুঝতে পারেননি।
২০২৪ সালে অ্যান কারসন জানিয়েছিলেন, তিনি স্মৃতিভ্রমজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন ১৯৮১ সালে ক্লাসিকস বিষয়ে তাঁর ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও আধুনিক ভাষার অসাধারণ সমন্বয় দেখা যায়।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুবাদ ও পুনর্নির্মাণেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সাপফোর অসমাপ্ত কবিতার অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২) এবং ইউরিপিডিসের নাটক ‘বাক্খাই’ (২০১৫) তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ।
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আইরনি অ্যান্ড গড’ সংকলনের ‘দ্য গ্লাস এসে’ এবং ১৯৯৮ সালের পদ্য-উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি এনে দেয়।
গতানুগতিক লেখার ধরন থেকে বেরিয়ে অ্যান কারসন নানা পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মও তৈরি করেছেন। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’-এ ২২টি ছোট পুস্তিকা সংকলিত হয়। ২০২৪ সালে তিনি মঞ্চে উপস্থাপনের উপযোগী ভিন্নধারার টেক্সট সংকলন ‘রং নর্মা’ প্রকাশ করেন।
অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেও তিনি সমকালীন সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন।
১৯০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। এ বছর ১১৮তমবারের মতো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো। এখন পর্যন্ত মোট ১২২ জন সাহিত্যিক এ পুরস্কার পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন নারী।