ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
RTN News

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের


প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজন শিবরাশাকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার মা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ বছর বয়সী ছেলের জীবন রক্ষায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেদন জানান আনোজনের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী। তিনি ছেলের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আনোজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ঘটনাটি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আনোজনকে ক্ষমা করে দেশে ফেরাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাকে সহায়তায় সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্কের মধ্যে এক ব্যবহারকারী হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজন তামিল ভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে আনোজন মন্তব্যটি মুছে দিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। তবে এর আগেই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার কর্মস্থল ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও মুছে দেওয়া হয়।

প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। তার পক্ষে সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা নাকচ হয় বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।

পরে ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌদি কৌসুলিরা সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচার চেয়ে আপিল করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে আনোজনের সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করেন।

আনোজনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তারা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, আনোজনকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

এদিকে আনোজনের মুক্তির দাবিতে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে চার সদস্যের একটি শ্রীলঙ্কান আইনি প্রতিনিধি দলের সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা আনোজনের স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

তবে ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজনের কোনো যোগাযোগ নেই। তার ভাই হামসিদান শিবরাশা জানান, দুই দিন ধরে ভাইয়ের কাছ থেকে কোনো ফোন পাননি। বিষয়টি সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকেও জানানো হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনোজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবার বা বিদেশি দূতাবাসকে সবসময় আগাম জানানো হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অনলাইনে মতপ্রকাশের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তার সাজা বাতিল করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি মানবাধিকার সংগঠন এএলকিউএসটি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এক কোটির বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন। অধিকারকর্মীদের মতে, ভাষাগত সমস্যা ও পর্যাপ্ত আইনি সহায়তার অভাবে অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির আইনি ব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

বিষয় : সৌদি মৃত্যুদণ্ড কটুক্তি

RTN News

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজন শিবরাশাকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার মা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ বছর বয়সী ছেলের জীবন রক্ষায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেদন জানান আনোজনের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী। তিনি ছেলের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আনোজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ঘটনাটি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আনোজনকে ক্ষমা করে দেশে ফেরাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাকে সহায়তায় সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্কের মধ্যে এক ব্যবহারকারী হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজন তামিল ভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে আনোজন মন্তব্যটি মুছে দিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। তবে এর আগেই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার কর্মস্থল ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও মুছে দেওয়া হয়।

প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। তার পক্ষে সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা নাকচ হয় বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।

পরে ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌদি কৌসুলিরা সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচার চেয়ে আপিল করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে আনোজনের সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করেন।

আনোজনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তারা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, আনোজনকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

এদিকে আনোজনের মুক্তির দাবিতে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে চার সদস্যের একটি শ্রীলঙ্কান আইনি প্রতিনিধি দলের সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা আনোজনের স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

তবে ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজনের কোনো যোগাযোগ নেই। তার ভাই হামসিদান শিবরাশা জানান, দুই দিন ধরে ভাইয়ের কাছ থেকে কোনো ফোন পাননি। বিষয়টি সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকেও জানানো হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনোজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবার বা বিদেশি দূতাবাসকে সবসময় আগাম জানানো হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অনলাইনে মতপ্রকাশের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তার সাজা বাতিল করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি মানবাধিকার সংগঠন এএলকিউএসটি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এক কোটির বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন। অধিকারকর্মীদের মতে, ভাষাগত সমস্যা ও পর্যাপ্ত আইনি সহায়তার অভাবে অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির আইনি ব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের
0:00 0:00
1.0x