ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯
আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগৃহীত

জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই হলের অন্তত ৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে সাভারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নজরুল হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যা ৫টা থেকে দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা এগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের আগের বরাদ্দ অনুযায়ী দোকানগুলো তাঁদের হল প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, দোকানগুলো তাঁদের হলের সামনে অবস্থিত। তাই এসব দোকান থেকে পাওয়া ভাড়া হলের আয় হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা দরকার।

এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলার পর সোমবার তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একদল শিক্ষার্থী নজরুল হলের সামনে থাকা চারটি খাবারের দোকানের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে কয়েকটি খাবারের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের পর নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দোকানগুলোর বিষয়ে সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের হলের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ানোর কথাও বলা হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—অর্থনীতি বিভাগের আদনান আল মাহাদী, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের রেদোয়ান, জার্নালিজম বিভাগের এসএম শিমুল, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের রোহান ও রাবিদ, পাবলিক হেলথ বিভাগের আলী আরাফাত, আইন ও বিচার বিভাগের কাজী রোকনুজ্জামান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্বাধীন এবং বিএমবি বিভাগের আরাফাত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে আহত ৯ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছিল। তবে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

সহকারী প্রক্টর আব্দুর সাত্তার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত দোকানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার কাজ শেষ হলে দোকানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বৈঠকে উপাচার্য, দুই উপউপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, দুই হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দুই হল সংসদের নেতাসহ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। দোকানগুলোর মালিকানা ও সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিষয় : আহত

RTN News

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই হলের অন্তত ৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে সাভারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নজরুল হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যা ৫টা থেকে দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা এগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের আগের বরাদ্দ অনুযায়ী দোকানগুলো তাঁদের হল প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, দোকানগুলো তাঁদের হলের সামনে অবস্থিত। তাই এসব দোকান থেকে পাওয়া ভাড়া হলের আয় হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা দরকার।

এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলার পর সোমবার তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একদল শিক্ষার্থী নজরুল হলের সামনে থাকা চারটি খাবারের দোকানের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে কয়েকটি খাবারের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের পর নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দোকানগুলোর বিষয়ে সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের হলের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ানোর কথাও বলা হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—অর্থনীতি বিভাগের আদনান আল মাহাদী, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের রেদোয়ান, জার্নালিজম বিভাগের এসএম শিমুল, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের রোহান ও রাবিদ, পাবলিক হেলথ বিভাগের আলী আরাফাত, আইন ও বিচার বিভাগের কাজী রোকনুজ্জামান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্বাধীন এবং বিএমবি বিভাগের আরাফাত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে আহত ৯ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছিল। তবে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

সহকারী প্রক্টর আব্দুর সাত্তার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত দোকানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার কাজ শেষ হলে দোকানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বৈঠকে উপাচার্য, দুই উপউপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, দুই হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দুই হল সংসদের নেতাসহ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। দোকানগুলোর মালিকানা ও সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
জাবিতে ছয় দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯
0:00 0:00
1.0x