ঢাকা    বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি


প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি

একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি

দেশের অনেক কলেজেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর জন্য যেন হাহাকার চলছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তিন শতাধিক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ন্যূনতম একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীর কয়েকটি কলেজও রয়েছে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি কোনো কোনো কলেজের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অজান্তে ভর্তির আবেদন করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর বিপরীতে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩টি। ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও ১৪ লাখের বেশি আসন খালি থাকবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এর বিপরীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেক কলেজে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।

এবার একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে মোট আসনের ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে এই কোটা পদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণ

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে। একইভাবে বিভিন্ন বছরের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

শিক্ষার্থী সংকটে রাজধানীরও বহু কলেজ

রাজধানীর মগবাজারের ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কয়েক বছর ধরে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে রয়েছে। ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি একসময় নামকরা হলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে পারছে না।

একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকা কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে খিলগাঁওয়ের প্রাইম সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মোহাম্মদপুরের ট্রিনিটি কলেজ, মতিঝিলের ওয়েস্টার্ন কলেজ, উত্তরার স্টামফোর্ড কলেজ, পদ্মকানন রোডের সেন্ট্রাল আইডিয়াল কলেজ, উত্তরার হলি চাইল্ড কলেজ, সাতমসজিদ রোডের ঢাকা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রীন রোডের আনোয়ার আইডিয়াল কলেজ, কেরানীগঞ্জের লাইসাম কলেজ, টঙ্গীর পূবাইল কমার্স কলেজ, নবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের খান ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মোহাম্মদপুরের সানওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নর্দান ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কলেজ, মানিকগঞ্জের বালিয়াটি কলেজ, মিরপুরের সরোজ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, নিকুঞ্জের রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ, পাকুন্দিয়ার চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুন্সীগঞ্জের মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজ, মানিকগঞ্জের ডা. আব্দুর রহমান খান মহিলা কলেজ এবং রাজবাড়ীর জঙ্গল সম্মিলনী আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এ ছাড়া রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকার আরও অনেক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নেই বলে জানা গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কলেজ শাখার সূত্র বলছে, সাধারণত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের অন্তত ১০ শতাংশ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় না। এ বছরও যদি একই প্রবণতা থাকে, তাহলে খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, একাদশ শ্রেণিতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকছে। এ অবস্থায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নতুন বিভাগ বা অতিরিক্ত আসন তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, শিক্ষার মান ও বিষয়ভিত্তিক চাহিদা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

উচ্চশিক্ষাতেও পড়তে পারে প্রভাব

শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব উচ্চশিক্ষাতেও পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আসন খালি থাকার পাশাপাশি শিক্ষক, অবকাঠামো ও অর্থায়নের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ধরে রাখতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।

তবে শিক্ষার্থী কমে যাওয়াকে শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। শিক্ষার্থীর চাপ কমলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত উন্নত করা, গবেষণা বাড়ানো এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এজন্য এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : শিক্ষা

RTN News

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি

দেশের অনেক কলেজেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর জন্য যেন হাহাকার চলছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তিন শতাধিক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ন্যূনতম একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীর কয়েকটি কলেজও রয়েছে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি কোনো কোনো কলেজের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অজান্তে ভর্তির আবেদন করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর বিপরীতে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩টি। ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও ১৪ লাখের বেশি আসন খালি থাকবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এর বিপরীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেক কলেজে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।

এবার একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে মোট আসনের ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে এই কোটা পদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণ

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে। একইভাবে বিভিন্ন বছরের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

শিক্ষার্থী সংকটে রাজধানীরও বহু কলেজ

রাজধানীর মগবাজারের ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কয়েক বছর ধরে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে রয়েছে। ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি একসময় নামকরা হলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে পারছে না।

একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকা কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে খিলগাঁওয়ের প্রাইম সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মোহাম্মদপুরের ট্রিনিটি কলেজ, মতিঝিলের ওয়েস্টার্ন কলেজ, উত্তরার স্টামফোর্ড কলেজ, পদ্মকানন রোডের সেন্ট্রাল আইডিয়াল কলেজ, উত্তরার হলি চাইল্ড কলেজ, সাতমসজিদ রোডের ঢাকা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রীন রোডের আনোয়ার আইডিয়াল কলেজ, কেরানীগঞ্জের লাইসাম কলেজ, টঙ্গীর পূবাইল কমার্স কলেজ, নবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের খান ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মোহাম্মদপুরের সানওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নর্দান ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কলেজ, মানিকগঞ্জের বালিয়াটি কলেজ, মিরপুরের সরোজ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, নিকুঞ্জের রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ, পাকুন্দিয়ার চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুন্সীগঞ্জের মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজ, মানিকগঞ্জের ডা. আব্দুর রহমান খান মহিলা কলেজ এবং রাজবাড়ীর জঙ্গল সম্মিলনী আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এ ছাড়া রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকার আরও অনেক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নেই বলে জানা গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কলেজ শাখার সূত্র বলছে, সাধারণত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের অন্তত ১০ শতাংশ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় না। এ বছরও যদি একই প্রবণতা থাকে, তাহলে খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, একাদশ শ্রেণিতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকছে। এ অবস্থায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নতুন বিভাগ বা অতিরিক্ত আসন তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, শিক্ষার মান ও বিষয়ভিত্তিক চাহিদা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

উচ্চশিক্ষাতেও পড়তে পারে প্রভাব

শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব উচ্চশিক্ষাতেও পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আসন খালি থাকার পাশাপাশি শিক্ষক, অবকাঠামো ও অর্থায়নের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ধরে রাখতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।

তবে শিক্ষার্থী কমে যাওয়াকে শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। শিক্ষার্থীর চাপ কমলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত উন্নত করা, গবেষণা বাড়ানো এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এজন্য এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
একাদশে একজন শিক্ষার্থীও নেই তিন শতাধিক কলেজে, আসন খালি থাকবে ১৪ লাখের বেশি
0:00 0:00
1.0x