প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে ভ্যানিলা কুকি!
জিন-সম্পাদিত ইস্ট ব্যবহার করে ‘মাইক্রোবাইটস’ তৈরির উদ্যোগ, মানুষের খাওয়ার উপযোগিতা যাচাইয়ে অপেক্ষায় গবেষকেরা
প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মানুষের খাওয়ার উপযোগী ভ্যানিলা-স্বাদের কুকি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। জিনগতভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির ব্যবহার করে এই অভিনব কুকি তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন তাঁরা। তবে গবেষকেরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনুমোদন মিললে তাঁরা নিজেরাই প্রথমবারের মতো তৈরি কুকির স্বাদ পরীক্ষা করবেন।
নিও-সায়েন্টিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষক সন্ধ্যা জয়াসেকারা ও তাঁর সহকর্মীরা প্লাস্টিক দূষণ এবং খাদ্যসংকট—এই দুই বড় সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে গবেষণাটি করছেন।
গবেষণার প্রথম ধাপে সুপারমার্কেট থেকে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল এবং মিষ্টি ভুট্টাগাছের ফেলে দেওয়া ডাঁটা ও পাতা বিশেষ তাপপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে এমন উপাদানে পরিণত করা হয়, যা অণুজীব হজম করতে পারে।
এরপর এসব উপাদান ‘সিআরআইএসপিআর’ (CRISPR) জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তিত ইস্টের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গবেষকদের তৈরি ইস্ট ওই উপাদানগুলোকে প্রোটিন, চর্বি, বিভিন্ন অ্যাসিড, ভ্যানিলা ফ্লেভারিং এবং বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করতে পারে। বিটা-ক্যারোটিন মানবদেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়।
পরবর্তী ধাপে ওই মিশ্রণের সঙ্গে ফাইবার, স্টার্চ ও মিষ্টিকারক যোগ করে পেস্ট তৈরি করা হয়। পরে থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে পেস্টটি পছন্দমতো আকার দেওয়া হয়। গবেষকেরা এই কুকিগুলোর নাম দিয়েছেন ‘মাইক্রোবাইটস’।
গবেষণাটি আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শিকাগোতে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির এক বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। গবেষক সন্ধ্যা জয়াসেকারা বলেন, কুকিগুলোর গন্ধ বেশ আকর্ষণীয় এবং এটি সত্যিকারের কুকির মতোই সুস্বাদু হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তবে গবেষণাটি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক জেসন হ্যালেট বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। শুধু কুকি তৈরির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, প্রচলিত ও কার্যকর পুনর্ব্যবহারব্যবস্থাই প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়।
গবেষকেরাও স্বীকার করছেন, সমুদ্র বা ল্যান্ডফিলে থাকা প্লাস্টিককে নিরাপদ খাদ্যে রূপান্তর করতে আরও দীর্ঘ সময়ের গবেষণা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আপাতত ‘মাইক্রোবাইটস’ গবেষণাগারের একটি পরীক্ষামূলক ধারণা হিসেবেই রয়েছে।