ফরম জটিলতায় প্রথম পরীক্ষা মিস: লালপুরের ৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে কলেজের এক অফিস সহকারীর প্রতারণার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে না পারা আট শিক্ষার্থীর ওই পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ কাটছে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা মো. ইমামুল হক জানান, তার মেয়ের লিখিত পরীক্ষা মঙ্গলবার উচ্চতর গণিত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তবে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে প্রথম পরীক্ষার পর থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। এ সুযোগে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিলেও ফরম জমা দেননি। ফলে তারা প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি আমলে নেন। তার নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
এ ঘটনায় ইসরাত জাহান সূচির বাবা মো. ইমামুল হক বাদী হয়ে অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।