ফলোআপ চিকিৎসায় প্রশাসনিক জটিলতা, বিদেশ যেতে অপেক্ষায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ৬০ জন
দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরছে ফাইল, মেডিকেল বোর্ড না থাকায় আটকে চিকিৎসা; দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৬০ জন আহতের ফলোআপ চিকিৎসা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে তাঁদের। কোথায় ফাইল আছে, কবে সিদ্ধান্ত হবে—এসব তথ্যও স্পষ্টভাবে পাচ্ছেন না অনেকেই।
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন গুলিবিদ্ধ খোকন চন্দ্র বর্মণ। মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত ১৬ এপ্রিল রাশিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জুনেই ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আবার রাশিয়ায় যাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত আগামী ১৪ আগস্ট তাঁর রাশিয়া যাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন আনোয়ার হোসাইন। আন্দোলনের সময় শাহজাদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরলেও প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে তাঁর ফলোআপ চিকিৎসা আটকে আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মধ্যে ফাইল ঘুরলেও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহর বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। তবে নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন না হওয়ায় এখনও বিদেশে যেতে পারেননি তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত ১৫৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৩৯ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন। দেশে ফেরা আহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের ফলোআপ চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও বেশির ভাগই এখনও বিদেশ যেতে পারেননি।
সরকার জানিয়েছে, আহতদের বিদেশে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাংলাদেশে এনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চিকিৎসক দল বাংলাদেশে এসে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিএমইউ ও মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া ধীরগতির।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কারণে যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হয়ে থাকে, তবে কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।