আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে যুদ্ধের আবহ, বিস্ফোরক বার্তা ভাইস প্রেসিডেন্টের
ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি টেনে উত্তপ্ত মন্তব্য; উত্তেজনা কমাতে চান টুখেল, আবহাওয়াও চিন্তার কারণ
বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ফুটবলার ও কোচদের বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বার্তা। ম্যাচের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল।
নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, “আগামীকাল আমরা দখলদার জলদস্যুদের বিপক্ষে খেলতে নামছি। এটি সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। আমি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার ভান করব না।” তিনি আরও বলেন, “এটি মালভিনাসের (ফকল্যান্ড) স্মৃতি। লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তাই এটি আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইও।”
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের ইতিহাস। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনের সংঘাতে প্রাণ হারান ৯০৭ জন। সেই যুদ্ধের স্মৃতি আজও দুই দেশের সম্পর্ক ও ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রভাবিত করে।
এদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল ম্যাচটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও খেলোয়াড়দের অতীতের ইতিহাস নয়, শুধুই মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে বলেছেন।
ম্যাচের আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই ম্যাচেই ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
এরই মধ্যে ম্যাচের ভেন্যু আটলান্টায় বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, ম্যাচের সময় বজ্রসহ বৃষ্টি ও আকস্মিক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক এই সেমিফাইনালের আগে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আবহাওয়াও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।