ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
RTN News

অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস


প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস

অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস

নীলফামারী প্রতিনিধি

অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস। একসময় উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাল ইটের এই ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। দর্শনার্থীদের কাছে এটি কৌতূহলের জায়গা হলেও বর্তমানে ভবনটি যেন পরিণত হয়েছে এক ভুতুড়ে স্থাপনায়।

জানা গেছে, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার সময় সৈয়দপুরে টেলিগ্রাফ অফিসটিও নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ আমলে শিয়ালদহ-শিলিগুড়ি ব্রডগেজ রেলপথে ট্রেন চলাচল ও সিগন্যালের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রায় এক একর ১০ শতক জমির ওপর এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।

চুন-সুরকি, পোড়ামাটির লাল ইট ও ভারী লোহার বিম দিয়ে নির্মিত ভবনটির খিলান আকৃতির দরজা-জানালা আজও বহন করছে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষ্য। ভবনের ভেতরে রয়েছে বড় হলরুম, একাধিক কক্ষ, স্টাফ কোয়ার্টার এবং প্রাচীন টেলিকম টাওয়ার।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগে ভবনটি ব্যবহৃত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগ, টিঅ্যান্ডটি, বিটিটিবি এবং পরে বিটিসিএলের অধীনে আসে। ২০০৮ সালের পর নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হওয়ায় ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এটি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। তারা আশঙ্কা করছেন, যথাযথ তদারকি না থাকলে মূল্যবান এ সম্পত্তি দখলের ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক কামরুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ভবনটি সংরক্ষণ করে টেলিযোগাযোগ জাদুঘর বা তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে ইতিহাস ও পর্যটন—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজাউল হক জানান, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোডে অবস্থিত নতুন কার্যালয় থেকেই সব সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিষয় : ফিচার

RTN News

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস

নীলফামারী প্রতিনিধি

অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস। একসময় উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাল ইটের এই ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। দর্শনার্থীদের কাছে এটি কৌতূহলের জায়গা হলেও বর্তমানে ভবনটি যেন পরিণত হয়েছে এক ভুতুড়ে স্থাপনায়।

জানা গেছে, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার সময় সৈয়দপুরে টেলিগ্রাফ অফিসটিও নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ আমলে শিয়ালদহ-শিলিগুড়ি ব্রডগেজ রেলপথে ট্রেন চলাচল ও সিগন্যালের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রায় এক একর ১০ শতক জমির ওপর এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।

চুন-সুরকি, পোড়ামাটির লাল ইট ও ভারী লোহার বিম দিয়ে নির্মিত ভবনটির খিলান আকৃতির দরজা-জানালা আজও বহন করছে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষ্য। ভবনের ভেতরে রয়েছে বড় হলরুম, একাধিক কক্ষ, স্টাফ কোয়ার্টার এবং প্রাচীন টেলিকম টাওয়ার।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগে ভবনটি ব্যবহৃত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগ, টিঅ্যান্ডটি, বিটিটিবি এবং পরে বিটিসিএলের অধীনে আসে। ২০০৮ সালের পর নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হওয়ায় ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এটি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। তারা আশঙ্কা করছেন, যথাযথ তদারকি না থাকলে মূল্যবান এ সম্পত্তি দখলের ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক কামরুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ভবনটি সংরক্ষণ করে টেলিযোগাযোগ জাদুঘর বা তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে ইতিহাস ও পর্যটন—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজাউল হক জানান, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোডে অবস্থিত নতুন কার্যালয় থেকেই সব সেবা দেওয়া হচ্ছে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস
0:00 0:00
1.0x