ঢাকা    শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গোপন ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের


প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গোপন ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের
ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছাকাছি একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স আবিষ্কারের দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ওই স্থাপনাকে গোপন ড্রোন কারখানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।

ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে প্রায় চার মাইল উত্তরে মাজদাল জুন গ্রামের নিচে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কটির অবস্থান। যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছিল, এটি সেসব এলাকার একটি অংশে অবস্থিত। সেনাবাহিনীর দাবি, সেখানে ইরানি প্রযুক্তিতে কামিকাজে ড্রোন সংযোজন ও প্রস্তুতের কাজ চলছিল এবং এসব ড্রোন ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও ড্রোন ধ্বংসের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

এমন এক সময়ে এ তথ্য সামনে এল, যখন ইরান ও লেবাননকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও একটি নাজুক শান্তি পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতামূলক আলোচনার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে নতুন করে ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে ইসরায়েলও তা সম্মান করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ লেবাননে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে আসছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনাও নানা জটিলতায় পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর আলোচনা সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, উভয় পক্ষের কাছেই একটি সম্ভাব্য সমঝোতার রূপরেখা রয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই কোনো চুক্তির দিকে অগ্রগতি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েল এখন কৌশলগত এক দ্বিধার মুখে। একদিকে সামরিক জবাব দিলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নীরব থাকলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি আরও বাড়তে পারে।

বিষয় : ইসরায়েল লেবানন মধ্যপ্রাচ্য ড্রোন কারখানা সুড়ঙ্গ আবিষ্কার

RTN News

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গোপন ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছাকাছি একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স আবিষ্কারের দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ওই স্থাপনাকে গোপন ড্রোন কারখানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।

ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে প্রায় চার মাইল উত্তরে মাজদাল জুন গ্রামের নিচে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কটির অবস্থান। যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছিল, এটি সেসব এলাকার একটি অংশে অবস্থিত। সেনাবাহিনীর দাবি, সেখানে ইরানি প্রযুক্তিতে কামিকাজে ড্রোন সংযোজন ও প্রস্তুতের কাজ চলছিল এবং এসব ড্রোন ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও ড্রোন ধ্বংসের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

এমন এক সময়ে এ তথ্য সামনে এল, যখন ইরান ও লেবাননকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও একটি নাজুক শান্তি পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতামূলক আলোচনার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে নতুন করে ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে ইসরায়েলও তা সম্মান করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ লেবাননে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে আসছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনাও নানা জটিলতায় পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর আলোচনা সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, উভয় পক্ষের কাছেই একটি সম্ভাব্য সমঝোতার রূপরেখা রয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই কোনো চুক্তির দিকে অগ্রগতি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েল এখন কৌশলগত এক দ্বিধার মুখে। একদিকে সামরিক জবাব দিলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নীরব থাকলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি আরও বাড়তে পারে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গোপন ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের
0:00 0:00
1.0x