ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
RTN News

ড্রোন ঠেকাতে মাছ ধরার জাল, পাকিস্তানে পুলিশের অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ড্রোন ঠেকাতে মাছ ধরার জাল, পাকিস্তানে পুলিশের অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলা ঠেকাতে অভিনব কৌশল নিয়েছে পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ চৌকি ও ফাঁড়ির ওপরে কয়েক মিটার উঁচুতে টানানো হচ্ছে মাছ ধরার জাল। পুলিশের দাবি, এতে ড্রোন আটকে দেওয়া বা বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল হাঙ্গু জেলার সারকি পিয়ালা পুলিশ চৌকিতে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় তেহরিক–ই–তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পরে চৌকিটি ঘিরে গুলি চালায় গোষ্ঠীটির সদস্যরা। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে একটি সাঁজোয়া গাড়ির চালক নিহত এবং এক পুলিশ সদস্য আহত হন।ওই হামলার সময় চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক ফাইয়াজ খান। তিনি জানান, হামলার মুহূর্তে তাঁরা আত্মরক্ষায় নিচু হয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, তখন তাঁরা জানতেন না শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না।এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমাতে প্রায় দুই মাস আগে সারকি পিয়ালা চৌকির ছাদ ও সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে কালো জাল টানানো হয়। দড়ি ও তারের সাহায্যে তৈরি এই জাল দেখতে অনেকটা মাছ ধরার জালের মতো।ফাইয়াজ খান বলেন, কোনো ড্রোন চৌকির ওপর দিয়ে এলে জালে আটকে যেতে পারে। এতে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় বা থামানো সম্ভব হতে পারে। এমনকি জালে আটকে ড্রোনটি ওপরেই বিস্ফোরিত হলেও নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।হাঙ্গু জেলা পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব জানান, একটি সাধারণ পুলিশ চৌকি এভাবে ঢাকতে প্রায় ৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি খরচ হয়। ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার হামলার ঝুঁকি কমাতে জেলার আরও বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও চৌকিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত ও ডেরা ইসমাইল খানসহ অন্তত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পুলিশ চেকপোস্ট ও ফাঁড়িতেও এ ধরনের জাল বসানো হয়েছে। কয়েকটি সামরিক চৌকিতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।পুলিশের দাবি, জাল বসানোর পর সারকি পিয়ালা ও কাছের বালিয়ামেনা চৌকিতে আর কোনো ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার হামলা হয়নি। তাঁদের ধারণা, এ ব্যবস্থা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। গুলিবর্ষণ ও মর্টার হামলার পাশাপাশি এখন ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য পুলিশ ও সামরিক বাহিনী।হাঙ্গুতে গত ২৯ জুলাই একটি পুলিশ ফাঁড়িতে বোমাযুক্ত কোয়াডকপ্টার হামলার পর স্থলপথে আক্রমণ চালানো হয়। এতে অন্তত ১১ পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৮ জন আহত হন। পরে টিটিপি ওই হামলার দায় স্বীকার করে। পুলিশ বলছে, অত্যাধুনিক ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তির তুলনায় মাছ ধরার জাল অনেক কম খরচে স্থাপন করা যায়। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ চৌকিগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে আপাতত এই সহজ কৌশলই কাজে লাগানো হচ্ছে।

ড্রোন ঠেকাতে মাছ ধরার জাল, পাকিস্তানে পুলিশের অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা