ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

মার্কিন হামলা হলে সীমান্তের তোয়াক্কা করবে না ইরান, লক্ষ্যবস্তু হবে সব মার্কিন সম্পদ


প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মার্কিন হামলা হলে সীমান্তের তোয়াক্কা করবে না ইরান, লক্ষ্যবস্তু হবে সব মার্কিন সম্পদ

মার্কিন হামলা হলে বিশ্বের যেকোনো স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদে আঘাত হানবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নমনীয় অবস্থান নিলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির পথ সহজ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো হামলা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। ইরানে হামলা হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা না করেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শত্রুপক্ষের যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের সাবেক কূটনীতিক হাদি আফগাহি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা দেখালে ইরান চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সহজ করতে পারে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নন। কারণ, এমন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আফগাহি আরও মনে করেন, কাতারের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মার্কিন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর ডেমোক্র্যাটদের চাপ সৃষ্টি এবং সম্প্রতি মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ অবসানে সহযোগিতার আশ্বাসকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু যুদ্ধপন্থী উপদেষ্টা এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই সাবেক কূটনীতিক।

**সূত্র: আল জাজিরা**

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান আইআরজিসি

RTN News

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


মার্কিন হামলা হলে সীমান্তের তোয়াক্কা করবে না ইরান, লক্ষ্যবস্তু হবে সব মার্কিন সম্পদ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মার্কিন হামলা হলে বিশ্বের যেকোনো স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদে আঘাত হানবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নমনীয় অবস্থান নিলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির পথ সহজ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো হামলা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। ইরানে হামলা হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা না করেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শত্রুপক্ষের যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের সাবেক কূটনীতিক হাদি আফগাহি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা দেখালে ইরান চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সহজ করতে পারে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নন। কারণ, এমন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আফগাহি আরও মনে করেন, কাতারের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মার্কিন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর ডেমোক্র্যাটদের চাপ সৃষ্টি এবং সম্প্রতি মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ অবসানে সহযোগিতার আশ্বাসকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু যুদ্ধপন্থী উপদেষ্টা এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই সাবেক কূটনীতিক।

**সূত্র: আল জাজিরা**



RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
মার্কিন হামলা হলে সীমান্তের তোয়াক্কা করবে না ইরান, লক্ষ্যবস্তু হবে সব মার্কিন সম্পদ
0:00 0:00
1.0x