ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

হাওরে ডুবে যাচ্ছিল মেয়ে, প্রাণ বাঁচিয়ে নিজের জীবন দিলেন বাবা

হাওরে ডুবে যাচ্ছিল মেয়ে, প্রাণ বাঁচিয়ে নিজের জীবন দিলেন বাবাআনন্দ ভ্রমণ মুহূর্তেই শোকে পরিণত; কিশোরগঞ্জের হাওরে স্রোতের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলননিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা অবসর কাটাতে তিন মেয়েকে নিয়ে জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন বাছির উদ্দিন মিলন। উদ্দেশ্য ছিল হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং পরিবারের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত কাটানো। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।শুক্রবার (২৪ জুলাই) করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ঘাট হয়ে গভীর হাওর এলাকায় বেড়াতে যান মিলন ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর সেতু এলাকায় ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে সবাই পানিতে নামেন।এ সময় পানির নিচে থাকা পাকা সড়কের ঢালে পা পিছলে প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে মিলনের মেজো মেয়ে শামন্তী। মেয়েকে ডুবে যেতে দেখে এক মুহূর্তও দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা।প্রবল স্রোতের সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে নিরাপদে তুলে আনতে সক্ষম হন বাছির উদ্দিন মিলন। তবে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। একপর্যায়ে স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যান এই সাহসী বাবা।মেয়েদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার অভিযান চালান। দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত বাছির উদ্দিন মিলন (৪২) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকে মেয়েদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতেই তিনি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও কিশোরগঞ্জ ক্লিনিকের মালিক শাহাদাত কবীর মুকুল জানান, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট হয়ে হাওরে বেড়াতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, ডুবে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়েই বাছির উদ্দিন মিলনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিজের জীবন দিয়ে সন্তানের জীবন রক্ষা করা এই বাবার আত্মত্যাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে।

হাওরে ডুবে যাচ্ছিল মেয়ে, প্রাণ বাঁচিয়ে নিজের জীবন দিলেন বাবা