বিউফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি ইসরায়েলের, আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
বিউফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি ইসরায়েলের, আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগদক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট দুর্গ (বিউফোর্ট ক্যাসেল) দখলের দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানে ‘সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তন’ বলে অভিহিত করেছেন।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের স্থল বাহিনী এখন লিতানি নদীকেন্দ্রিক পূর্বনির্ধারিত সীমারেখার আরও গভীরে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত এলাকায় নতুন করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলের এই সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণ হচ্ছে। তিনি এই অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি হিজবুল্লাহকেও ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ ও ‘ভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি’ অনুসরণ করছে।পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে চলমান বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং দ্রুত সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। জার্মানিও ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।প্রায় ৯০০ বছর আগে ক্রুসেডারদের নির্মিত বিউফোর্ট দুর্গ লিতানি উপত্যকার ওপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান। ১৯৮২ সালের প্রথম লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েল দুর্গটি দখল করলেও ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় এটি ছেড়ে দেয়।দুর্গটি পুনর্দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখন ‘ভয়ের বাধা ভেঙে’ আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে।ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধির জবাবে তারা অভিযান জোরদার করেছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ফলে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর দেশটিতে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের অন্তত ২৫ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।