কাজ শেষের আগেই সেতুর উইং ওয়ালে ফাটল দৃশ্যমান
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর ও রামনগর গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত খালের ওপর নির্মাণাধীন ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটিতে গত শনিবার দুপুরে ফাটলটি দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে বালু, পাথর, রডসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশের উইং ওয়ালে ফাটল ধরেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়কে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৮৯ পয়সা।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুকাইয়া এন্টারপ্রাইজ ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল কার্যাদেশ পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে বর্ধিত সময়সীমাও শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের পরই সেতুর উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান মিয়া অভিযোগ করেন, শিডিউল অনুযায়ী স্টিল শাটারিং ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে কাঠ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বালু ও পাথরের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।একই এলাকার বাসিন্দা ও এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, স্ল্যাব, বিম ও উইং ওয়ালে উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগও তোলেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুকাইয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, শিডিউল অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে রিটার্নিং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।
বাউফলের সদ্য যোগদান করা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে শিডিউল বহির্ভূত কাজ বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।