ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
RTN News

দিল্লিতে এক দিনে সাত হাজারের বেশি আটক

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক ৭ হাজারের বেশিভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনভর অভিযান চালিয়ে সাত হাজারের বেশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কেরালার সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মানিক সরকার ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিজয়ন ও কেজরিওয়াল যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে আটক হন। মমতাকে তাঁর বাসস্থানের সামনে থেকে আটক করা হয়। যন্তর মন্তরে পৌঁছানো অসম্ভব দেখে তিনি সাউথ অ্যাভিনিউয়ে ভাতিজা অভিষেকের সরকারি আবাসের সামনে বাস ছাউনিতে অবস্থান নেন। সেখান থেকে তাঁকে এবং সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলে ও ডেরেক ও’ব্রায়ানকে আটক করা হয়।শনিবার সকালে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতরেই সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করা হয়। এর আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, যিনি তিন দিন আগে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। সিজেপির লিগ্যাল সেলের নেত্রী রত্না সিংকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।আইসার (অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি নেহা বোরা দক্ষিণ দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছে দিল্লি হাটের সামনে মিছিল বের করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় এক্স-এ এক পোস্টে তিনি মুক্তির কথা জানান। ওই মিছিল থেকে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভকারীদের সমাবেশস্থলে পৌঁছানো ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি এলাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের রাখতে তিনটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের দাবিও করা হয়েছে।শনিবারের দমনপীড়নের পরও পিছু হটছে না সিজেপি। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রোববার (১১ অক্টোবর) ফের যন্তর মন্তর অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ বড় কর্মসূচি পালন করবে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডয়েচে ভেলে, দ্য টেলিগ্রাফ

দিল্লিতে এক দিনে সাত হাজারের বেশি আটক