কঙ্গোতে ৮ প্রদেশে ইবোলা, আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়াল; মৃত্যু সাড়ে ৪ হাজার
কঙ্গোতে ৮ প্রদেশে ইবোলা, আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়াল; মৃত্যু সাড়ে ৪ হাজারআফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার সংক্রমণ নতুন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির নর্থ উবাঙ্গি প্রদেশে নতুন করে দুজনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি তৎপরতা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ নর্থ উবাঙ্গিতে দুটি সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নতুন প্রদেশে সংক্রমণের তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে তখনো সরকারিভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তবর্তী নর্থ উবাঙ্গিতে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় রোগটির বিস্তার ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে কঙ্গোর আটটি প্রদেশে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হলো। এর আগে নর্থ কিভু, ইতুরি, হাউত-উয়েলে, তশোপো, সাউথ কিভু, বাস-উয়েলে ও সাউথ উবাঙ্গি প্রদেশে রোগটির উপস্থিতি পাওয়া যায়।৯ হাজারের বেশি সংক্রমণ, মৃত্যু ৪ হাজার ৫৩৬কঙ্গোর সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৯ হাজার ৪১৫ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ হাজার ৫৩৬ জন। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে।দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ এখনো সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্র। ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কঙ্গোতে নতুন করে শনাক্ত হওয়া ৬৭টি সংক্রমণের মধ্যে ৪৪টিই ইতুরিতে। একই সময়ে দেশটিতে আরও ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।সীমান্ত পেরিয়ে ছড়াচ্ছে সংক্রমণকঙ্গোর বাইরেও ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। উগান্ডার পাশাপাশি কেনিয়াতেও রোগটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কেনিয়ায় সাতটি সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম রোগীর চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন।কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় যাওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। পরে তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে নজরদারি, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি এখনো গুরুতর। দেশটির সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।বুন্দিবুগিও ধরনের ইবোলায় নেই অনুমোদিত টিকাবর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরন বুন্দিবুগিও। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়ম মেনে চলা এবং উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়। এসব তরলে দূষিত বস্তু থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।নর্থ উবাঙ্গিতে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় কঙ্গোতে নজরদারি ও চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।