ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

দুই ভাইয়ের বাড়ির মেঝের নিচে তিন ড্রাম ভর্তি কোটি কোটি রুপি, গ্রেপ্তার ১

দুই ভাইয়ের বাড়ির মেঝের নিচে তিন ড্রাম ভর্তি কোটি কোটি রুপি, গ্রেপ্তার ১ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে দুই ভাইয়ের বাড়ির মেঝের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা তিনটি ড্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ড্রামগুলোতে ছিল ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল। উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অর্থের প্রকৃত পরিমাণ ও উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াগরাজের গঙ্গানগর জোনের রামনগর গ্রামের বারাইপুর এলাকায় বুধবার এ অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ ও সোরাঁও থানার পুলিশের একটি যৌথ দল বাড়িটিতে তল্লাশি চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোরাঁও ও ফুলপুর এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনারেরা।পুলিশ জানায়, বাড়িটির মালিক রাকেশ ও রাজেশ যাদব নামের দুই ভাই। তাঁরা আগে ভারতের পুনেতে চাকরি করতেন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা দুই ভাই গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক জমি কিনতে শুরু করেন। তাঁরা একটি ট্রাক্টরও কেনেন। পাশাপাশি তাঁদের বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। স্বল্প বেতনের চাকরি করা দুই ভাই কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে তাঁদের সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সম্প্রতি দুই ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামবাসীর বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রাখার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ।প্রথম দফায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির একটি কক্ষের মেঝে পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। সেখানে সম্প্রতি মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাঁদের সন্দেহ হয়।এরপর শ্রমিক এনে মাটি খনন করা হলে মাটির নিচে তিনটি ড্রাম পাওয়া যায়। ড্রামগুলো কালো মোটা প্লাস্টিক দিয়ে কয়েক স্তরে মোড়ানো ছিল। সেগুলো খুলতেই ভেতরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা।গঙ্গানগর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার সোনম কুমার জানান, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।এ ঘটনায় বাড়িটি সিলগালা করেছে পুলিশ। অর্থের উৎস অনুসন্ধানে আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর নগদ অর্থ গণনা শুরু হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বারবার বক্তব্য পরিবর্তন করছেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার করা অর্থের উৎস ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দুই ভাইয়ের বাড়ির মেঝের নিচে তিন ড্রাম ভর্তি কোটি কোটি রুপি, গ্রেপ্তার ১