ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

সামরিক নিয়োগ বাতিলসহ নানা দাবিতে জার্মানির ৩৪ শহরে জেন–জি বিক্ষোভ

সামরিক নিয়োগ বাতিলসহ নানা দাবিতে জার্মানির ৩৪ শহরে জেন–জি বিক্ষোভজীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জার্মানির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, ফ্রাঙ্কফুর্টে হুডি ও মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালান। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।‘জেন–জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt) নামের একটি গোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘জেন–জিই দায়িত্ব নিচ্ছে’। আয়োজকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, শহরে সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার অথবা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।শনিবার বিকেলে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। আয়োজকেরা প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করেছিলেন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। এদিকে হামবুর্গে কয়েকটি ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।শনিবার বার্লিনের একটি সমাবেশে ‘জেন–জি রেগেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, ‘আমরা আজ এখানে যুদ্ধ ও জবরদস্তির পক্ষে নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করতে এসেছি।’তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দাবি। তাঁরা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধী এবং সমাজে দায়িত্বের বোঝা আরও ন্যায্যভাবে বণ্টনের পক্ষে।তবে আন্দোলনটির নেতৃত্ব কারা দিচ্ছেন এবং এটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের নেতৃত্বাধীন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংগঠনও অংশ নিয়েছে। জার্মানির জাতীয় পর্যায়ের স্কুলশিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএসকে এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।এদিকে বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জরাজীর্ণ ভবনগুলোর অবস্থা তুলে ধরতে বিক্ষোভে অংশ নেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষগুলোতে প্রবেশ করলে মনে হয়, সেগুলো যেন পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এসব ভবনে এসে পড়াশোনা করতে হয়। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন। সূত্র: রয়টার্স

সামরিক নিয়োগ বাতিলসহ নানা দাবিতে জার্মানির ৩৪ শহরে জেন–জি বিক্ষোভ