ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

রাকসুর জিএস আম্মারকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে দায়িত্বকাল

রাকসুর জিএস আম্মারকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে দায়িত্বকালজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অন্যতম ছাত্রনেতা হিসেবে আলোচনায় আসা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছরে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন। শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ, প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ, বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মন্তব্য, অনুদান সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক মারধরের ঘটনাসহ নানা ইস্যুতে তাকে ঘিরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বেশির ভাগই অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, তার সব কর্মকাণ্ডই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে।রাকসু নির্বাচনের আগেই বিতর্করাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়ার আগেই পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন আম্মার। সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় সাবেক উপ-উপাচার্যের গাড়ি ঘেরাও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ রাখার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি দাবি করেন, শিক্ষকদের প্রতি কোনো অসম্মান দেখানো হয়নি।প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগজিএস হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এক বিবৃতিতে তার আচরণকে অশোভন ও ভীতিকর উল্লেখ করে নিন্দা জানায়। এছাড়া ডিনদের পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ফোনালাপের ঘটনাও ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।ফেসবুক মন্তব্য নিয়ে সমালোচনাগত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেত্রীর ফেসবুক পোস্টে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে জড়ান আম্মার। মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন তার সমালোচনা করে এবং আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াএপ্রিল মাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গচিত্রকে ঘিরেও বিতর্কে জড়ান তিনি। এ ঘটনায় খুলনার কয়রায় বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার মতো কর্মসূচি পালিত হয়।৭৬ লাখ টাকার অনুদান বিতর্কজুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা অনুদান চেয়ে পাঠানো চিঠি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, একজন ছাত্রনেতার এমন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে আম্মারের দাবি, প্রচারিত অঙ্কের তুলনায় প্রকৃত অর্থ সংগ্রহ হয়েছে অনেক কম।সাম্প্রতিক মারধরের অভিযোগসবশেষ গত ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীসহ তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রন্থাগার ও প্রক্টর দপ্তর এলাকায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। তবে আম্মারের দাবি, প্রথমে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছিল, পরে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়াছাত্র অধিকার পরিষদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্যাম্পাসে মব সহিংসতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। তারা সাম্প্রতিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।আম্মারের বক্তব্যসব অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তার প্রতিটি কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা। লাইব্রেরির ঘটনাকে তিনি ‘প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া’ বলে দাবি করেন। অনুদান বিতর্ক প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, প্রচারিত ৭৬ লাখ টাকা নয়, বাস্তবে মাত্র আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে।অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আম্মারের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় ছাত্রশিবির নেবে না এবং রাকসুতে তার কার্যক্রমের সঙ্গে সংগঠনের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।প্রশাসনের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, ২৭ জুলাইয়ের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধেই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাকসুর জিএস আম্মারকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে দায়িত্বকাল