ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের সমালোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের সমালোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তার সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করতে পারে না।হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিং এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে চুক্তিবিরোধী সমালোচনারও জবাব দেন।ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতা মেনে নেওয়া উচিত।’ইসরায়েলি মন্ত্রীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রের বিরুদ্ধে এভাবে অবস্থান নিতাম না।’ইসরায়েলের সামরিক নীতি প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, ‘নয় বা দশ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তার সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’তবে উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল।এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।ভ্যান্স বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিটিকে ‘সাম্প্রতিক কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি থামাতে পারেনি।
তবে এসব সমালোচনার জবাবে জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তির শর্ত পূরণ না করলে ইরান কোনো ধরনের সুবিধা পাবে না। চুক্তি অনুযায়ী দেশটিকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত লঙ্ঘন হলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।