মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে ফের উত্তেজনা, গুলিতে নিহত ৫
মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে ফের উত্তেজনা, গুলিতে নিহত ৫ভারতের মণিপুরে নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়েছে। কামজং ও উখরুল জেলায় গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কামজংয়ের চাসাদ এলাকায় অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০টি দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাসাদে গুলিতে নিহত হন পাঁচ সন্তানের জননী কুকি নারী ডমখোনেই তোউথাং। শনিবার সকালে একই এলাকায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে মারা যান ২৩ বছর বয়সি মাইকেল এনগাম্মিনলেন হাওকিপ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নিংচৌ গ্রামে গুলিতে নিহত হন দুই নাগা গ্রামবাসী, এনগাচানসো নিংশেন (৩৫) ও লেইশিশান লেইশাদাং (৪৮)। হামলাকারী কারা এবং এর কারণ কী, তা এখনো জানা যায়নি।এদিকে উখরুল জেলার টিএম কাসোমের কাছে ইয়াওলেন এলাকায় অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারান ৪০ বছর বয়সি সন্দীপ রাই। চার চাকার গাড়িতে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সব মিলিয়ে কামজংয়ে চারজন ও উখরুলে একজন নিহত হয়েছেন।আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কতজন ঘরছাড়া হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কামজংয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এল এন কাশুং ৯ অক্টোবর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের ৪০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, অস্ত্র বহন ও অপ্রয়োজনে বাইরে চলাচল নিষিদ্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। নিরাপত্তাকর্মী, দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, জরুরি সেবায় নিয়োজিত ও বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্তরা এর আওতামুক্ত।হত্যাকাণ্ড এবং চাসাদ, ইয়াওলেন ও ইম্ফল-তেংনৌপাল সড়ক এলাকায় সমন্বিত হামলার অভিযোগ তুলে কাঙপোকপি জেলায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার সম্পূর্ণ বন্ধ ডেকেছে আদিবাসী ঐক্য কমিটি (সিওটিইউ), সদর হিলস। জরুরি চিকিৎসাসেবা এর বাইরে রাখা হয়েছে।ডমখোনেই তোউথাং ও মাইকেল হাওকিপের হত্যার নিন্দা জানিয়েছে কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (কেডব্লিউইউ)। সংগঠনটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ ও ১০৫ ধারায় মামলা, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের (আইআরবি) পোস্ট সরানো এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি