ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এক লাফে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ২৩৫ এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০ বলে জানানো হয়েছিল।সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন বৈঠকে প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এই দুর্যোগে আমাদের নিহতের সংখ্যা এখন ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে।’এদিকে ভূমিকম্পের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ধসে পড়া বহুতল ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশায় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী Caracas-এর পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতত্ত্বের ভাষায় একে ‘ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প বলা হয়।প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় শহর Morón থেকে ২১ কিলোমিটার পশ্চিমে, ভূগর্ভের ২২ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৪৫ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ও প্রধান কম্পনটি আঘাত হানে।ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে শত শত বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় উদ্ধারকাজ চললেও ভেনেজুয়েলা এখন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ