দাওয়াত না দেওয়ার জেরে বিরোধ, ৪ দিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না ৩০ শিক্ষার্থী
দাওয়াত না দেওয়ার জেরে বিরোধ, ৪ দিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না ৩০ শিক্ষার্থীফরিদপুরের সদরপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী চার দিন ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। এ ঘটনায় স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।ঘটনাটি ঘটেছে সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে উদ্বোধনের বিষয়টি জানানোয় অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন এলাকার প্রভাবশালী মাতবর কামরুল হাসান। পরে তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন। এরপর থেকেই প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে চারজন শিক্ষক ও ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন নির্মাণের উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। তবে গত চার দিনে উপস্থিতি কমে ২৫ থেকে ৩০ জনে নেমে এসেছে।একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, কামরুল হাসানের প্রভাবের কারণে অনেকেই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।এদিকে পার্শ্ববর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভগীরথ সাহা জানান, ওই বিদ্যালয় থেকে ২৫ থেকে ২৭ জন শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে তাঁর বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। তবে ছাড়পত্র (টিসি) না থাকায় তাদের কাউকেই ভর্তি করা হয়নি।চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, হঠাৎ করে এত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না আসায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, উদ্বোধনের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ জানানোয় কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বলা হলেও তিনি তা মানেননি। তাঁর দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা হয় না—এমন কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করতে চাইতে পারেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কাওসার জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।