বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায়, পরে ইউএনওর কাছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায়, পরে ইউএনওর কাছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিচাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছে ১৫ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখানে গিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় সে। পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায় ওই শিক্ষার্থী।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পেরে প্রথমে শিবগঞ্জ থানায় যায় শিক্ষার্থীটি। পরে ইউএনও মাজহারুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানায়।শিক্ষার্থীটি ইউএনওকে বলে, সে বাল্যবিয়ে করতে চায় না। লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চায়। নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করার জন্য সাহস করে প্রশাসনের কাছে এসেছে বলেও জানায় সে।পরে ইউএনওর কার্যালয়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হলে তারা আপাতত মেয়েটির বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।শিক্ষার্থীর মা জানান, তাঁর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে সংসার চালান। আর্থিক সংকটের কারণে মেয়েটির বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন মেয়েকে আর বিয়ে দেবেন না এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানান, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বই, ব্যাগ, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণে প্রশাসন পাশে থাকবে।