ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে সরানো হলো ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে সরানো হলো ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষবোর্দো ও মাদ্রিদের দিকে আগুনের বিস্তার; সেনা মোতায়েন, ইইউর সহায়তা চাইল ফ্রান্স ও স্পেনআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্স ও স্পেনে নজিরবিহীন দাবানলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের হুমকিতে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা এবং বিশ্বখ্যাত আঙুর বাগানসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চেয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ধীরে ধীরে বোর্দো শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।আটলান্টিক উপকূলের অভিজাত ক্যাপ ফেরেট উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলে সেখানকার একমাত্র সড়কও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেকে নৌকায় এবং অনেকে গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। আগুনে ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে।ফরাসি ও স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার এবং স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চল থেকে ২৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী।প্রবল বাতাস, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনভূমির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্স ও স্পেন উভয়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চেয়েছে।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় দাবানল আগে কখনো দেখা যায়নি। বোর্দোকে রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে, মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো জানিয়েছেন, রাজধানীর কাছাকাছি দাবানল এখন ‘চরম পর্যায়ে’ পৌঁছেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকর্ন জরুরি বৈঠকের পর জানান, দাবানল মোকাবেলায় এক হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে আগুনে ২২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। ক্ষতিকর ধোঁয়া থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে জিরন্দ অঞ্চলে ১৫ লাখ এফএফপি-২ মাস্ক বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাপ ফেরেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৪০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। এ সপ্তাহে ফ্রান্স ও ইতালিতে দাবানল মোকাবেলার সময় তিনজন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বলছে, মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও খরা বেড়েছে, যা চলতি বছরের দাবানল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুল, জিমনেসিয়াম ও অন্যান্য স্থাপনায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় বাস্তুচ্যুত মানুষ কবে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে সরানো হলো ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ