হুতিদের হামলায় পরীক্ষার মুখে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর চুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতি হামলার খবর এসেছে। এর মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কার দিকে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটিকে আঞ্চলিক প্রতিরোধ ও পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তিটির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সহায়তার ধরন সামরিক ইউনিট থেকে শুরু করে গোয়েন্দা তথ্য, রসদ বা গোলাবারুদ পর্যন্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।হুতিদের হামলার পর পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে তখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি।পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অবস্থান পরে আরও কঠোর হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, মক্কা চুক্তি পাকিস্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং দেশটি এর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। তবে তিনি সম্ভাব্য সামরিক কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।অন্যদিকে, তুরস্কও এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। আঙ্কারা শুরু থেকেই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। তুরস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।ফলে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নীতি থাকলেও আক্রান্ত সদস্যকে কী ধরনের এবং কতটা সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা এখনো পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই চুক্তিটির রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি এর বাস্তব সামরিক প্রয়োগের কাঠামোকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্ক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই চুক্তিটির কার্যকারিতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।